মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

 আম


রঞ্জন ভট্টাচার্য ::ব্যারাকপুর



এলো বৈশাখ...

তপ্ত তপন সম্ভারে 

মুকুলের সমারোহ শরীরময় 

সেজেছে অনাবিল অনাড়ম্বর 

বিরহের পাতা ছিঁড়ে বোঁটায় বোঁটায়

গুটি হয়ে সেজেছে ভীষণ

সব অচেতন... 

সময়ের সাথে জাগে বুঝি 

আঁটি হয়ে নাদুস নুদুস 

সময়ের অপেক্ষায় আছি 

কখন ধরবে রঙ

পাল্টে যাবে মন অভিলাষে 

অকারণে যখন তখন 

অপেক্ষায় বর্ষা...

রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১

আমার উপর নেই ভুবনের ভার


রঞ্জন ভট্টাচার্য , ব্যারাকপুর।


সত্যিই তো এই ভুবনের ভার তাঁর উপর নেই। কথাটা যথার্থই বলেছেন ডাক্তারবাবু । আজকাল কোনো ডাক্তারবাবু উপর তাঁর পরিবারের ভার নেই তো, ভুবন এর.......... !সে ভাবনা আজ দুরহ....!


সৈনিক নগরে একমাত্র ডাক্তার মিস্টার চ্যাটার্জি, পুরো নাম তারাপদ চ্যাটার্জী,সুঠাম  সুন্দর, বয়সের ছাপ এখনো চোখে মুখে স্পর্শ করেনি ।গাড়ি-বাড়ি নিয়ে ছোট্ট সংসার । সুন্দরী রমনী আর একমাত্র ছেলে, সেও ডাক্তার।


-কে? তিতিবিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন


-আজ্ঞে ! আমি গোলাম আলী, পাশের বদ্রি নগরে বাস। ডাক্তারবাবু একবার ভিজিট যাবেন? বাপরটা যে কি হলো রাত থেকে ....,এসব বলতে বলতে গোলামের বাকরুদ্ধ হয়ে এলো।


নতুনপাড়া, রিটায়ার্ড সৈনিকদের সাথে সাথেই ডাক্তার বাবু এখানে বসতি স্থাপন করেন। সেদিন ভোর পাঁচটা সূর্যের রক্তিম আভা রঞ্জিত করেছে পৃথিবীর মুখ । গোলাম আলী ডাক্তারবাবু বাড়িতে কলিংবেল টিপল । সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, বড়লোক! রাত্রি বড় না হলে ঘুম আসে না এঁদের এমনিতে । এভাবেই মিনিট পাঁচেক চলার পর দরজায় সজোরে এক ধাক্কা দিলো গোলাম । মরদ  বটে, হাল চাষে এখনো খায় সে ।বাপটার বয়স প্রায় নব্বই এর কাছাকাছি । ঘরের ভেতর থেকে আওয়াজ এলো, -না না , এখন সময় হবে না। সাতটার সময় আসিস । তখন দেখা যাবে । বলতে বলতে দরজা বন্ধ হয়ে গেল।


-না ডাক্তার বাবু, না ! একটা হিল্লে আপনাকে করতে হবে নয়তো বাপটা যে অকালে.....! আপনি না হলে কে দেখবে ডাক্তার ?চলেন , ডাক্তার চলেন...!


ভিতর থেকে ডাক্তার কাব্যরস রসিক হয়ে বললেন ,শোন, " আমার উপর নেই ভুবনের ভার," বাইরে থেকে শুনলো বটে, কিন্তু বুঝলো কিনা বোঝা গেলো না । সে বলল, সে তো ভুবন ডাক্তার অনেক দূরে থাকে তাকে আনইতে আনইতে তো বাপটা  এক্কেবারে অক্কা পাবে ডাক্তার !


-সে যাই হোক এখন আমি যেতে পারব না।


-পারব নি বললেন কি হয় ডাক্তার .ডাক্তার মানুষ আপনি. যদি পারবনি বলেন তো আমরা কুথায় যাই ডাক্তার !


-যেখানে পারিস যা, তাতে আমার মাথাব্যথা নেই । ফিসফিসিয়ে বললেন, ভোরের ঘুমটা ভেঙে সারাদিন তো বেকার করে দিলি।


-বেকার হবেন ক্যানে ডাক্তার বাবু ? আপনি তো সরকারি চাকরি করেন ।সেখানে..... ,তবে বেকার ক্যানে ডাক্তার! আপনাকে না নিয়ে যাচ্ছি না ,সে যে দামেই হোক ,আমার নাম ও...।সারা জীবন আপনার গোলাম হয়ে থাকব কিন্তু আজ এক্ষুণি আপনাকে নিয়ে গিয়ে বাপের চিকিৎসা করাবো'ই করাবো, সে যে কোন শর্তে হোক না কেন ।


এসব কথা শুনে ডাক্তার চ্যাটার্জী বড় মুশকিলে পড়লেন।


-ব্যাটা বলে কি রে, স্পর্ধা তো কম নয়, দেখি, ব্যাটার টাকার গরমটা একটু দেখি , বলে গোলামকে উদ্দেশ্য করে বললেন,


যেতে পারি তবে একটা সর্তে ,গাড়ি ছাড়া নয় , সে তো অনেকটা পথ  আর ভিজিটের সাথে সাথে গাড়ির তেলের খরচ ও গাড়ির ড্রাইভার এর খরচ লাগবে ।পারবি তো ?


-নিশ্চয়ই পাইরবো বাবু নিশ্চয়ই পাইরবো । তবে ওষুধের খরচটা একেবারে ধরে নেন বাবু ।এত ভোরে ওষুধ পাব কোথায় ? আপনার কাছে তো থাকেই ।


ডাক্তার কটমট করে বললেন, ওষুধ থাকে মানে ?-


-না না সবাই বলে... গোলাম কথা ঘুরিয়ে বলল, সবাই আপনার প্রশংসা করছিল। আপনি নাকি ওষুধ ও সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেন ।আপনার ব্যাগে থাকে কিনা....।


- হ্যাঁ হ্যাঁ সরকারি ওষুধ, তা জানি তাতে কি হয়েছে ? তবে বেসরকারি ভাবে করলে কিছু হয় না। 


-সরকারের যা ক্ষমতা তা আপনাদের কিছুই করতে পারবে না ।এসব কথা শুনে একটু হলেও ডাক্তারবাবু গর্ববোধ করলেন । নিজের প্রশংসা কে না চায়! আর বলিস কেন, তোদের জন্যই তো এত দামী দামী ওষুধ...,  নয়তো পাবি কোত্থেকে ? আমার কাছে আছে বলেই তো তোদের একটু উপকার হয় ।


-তা তো বটেই ডাক্তার, এই অঞ্চলে বানের জলে ভেসে যাওয়া সব বানভাসি  গুলো আপনার উপর নির্ভরশীল। বলেছিস? সত্যি কথা বলতে কি তোদেরকে একটু উপকার করতে পারলে নিজেকে ধন্য বলে মনে হয় ! ডাক্তার হিসেবে সমাজের প্রতি তো একটা দায়বদ্ধতা  আছে বৈকি !


-

তা তো ঠিকই বলেছেন ডাক্তারবাবু ।


-এবার মনে মনে বললেন, সরকারি যা আয় তার থেকে ব্যয় বেশি ।যাই হোক চলে যায় ।তবে এটা ঠিক যে "আমার উপর এই ভুবনের ভার" এটা মনে রাখিস তবে খালি হাতে ফিরতে হবে না ।ডাক্তারও পাবি আর ওষুধ ও  বলে হো হো করে হাসতে লাগলেন ।


ওদিকে গোলামের বাপের ভূবনডাঙার পাড়ে যাবার সময় হলো যে....


শেষ



বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১

 তুই তো ইছামতি


রঞ্জন ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুর।


তুই যখন ছোট ছিলি 

অপ্রশস্ত বুকে তোর দুরন্তপনা 

চোখে পড়ার মতো 

কত জল বয়ে যেত নিজের খেয়ালে 

পরোয়া নেই 

ফুলে যখন বসন্তের নবযৌবনা মুকুল 

থরে থরে সাজানো ফুল রাশি 

কোকিলের ডাক শুনে উছলে ওঠে না তো মন ?

ভরা এ যৌবন....

সুবাস ছড়িয়ে বাতাসের স্তরে স্তরে 

মুগ্ধ আবরণে তুই মজেছিলি কিসে 

বোঝার উপায় নেই 

এমনি করে দিন যায় চলে 

গলিত স্রোতের বেগ আবেগে বিষাদে 

সুখ দুঃখে শোকে ।

মধ্যাহ্ন পেরিয়ে আজ গোধূলির বেলা 

শেষ জীবনের শেষ খেলা 

ক্ষয়িত জীবন স্রোতে জমেছে শ্যাওলা ময়লা-আবর্জনা ....

নেই সেই তেজ উন্মাদনা 

অবহেলিত পথিক হয়ে ঘুনধরা সমাজের 

এক নিস্তব্ধ আয়নার আড়ালে।

মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১

 ***ঝড় উঠুক***

রঞ্জন ভট্টাচার্য , ব্যারাকপুর।


আজ, ঝড় উঠেছে উঠুক সে ঝড় 

দমকা হাওয়ায় গান্ডীবে  

আসুক ঝঞ্ঝা রুদ্র রূপে 

তপ্ত মরুর তাণ্ডবে ।


ধ্বংস হবে হিংসা কুটিল

ছারখার হবে মনগুলি 

জাগবে এবার বিবেক বুদ্ধি

ওদের মুখে চুনকালি ।


এমনি হলেই স্বচ্ছ হবে  

নোঙরা যেসব  মন গুলি 

বিবেক জ্বালায় পুড়বে এবার 

ফুটবে সুখের ফুলগুলি।


*"*"*"*"            *          *"*"*"*"*

সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

 স্মরণে


রঞ্জন ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুর।

১৩:০৬:২০২১.


তোমার বহুমুখী প্রতিভার চিহ্ন রেখে গেছো 

এই সমাজের বুকে ...

হতদরিদ্র সংগ্রামী মেহনতী মানুষের চলার পথে । 

তোমার চলচ্চিত্রে টনক নড়েছে সব বুর্জোয়া শ্রেণির, স্বৈরতান্ত্রী  বিরুদ্ধাচারণে তুমি তো তুমিই।

নিজেকে বিলীন করেছ মেহনতী মানুষের হৃদয়ের মাঝে ,

যারা কাঠফাটা রোদে লাঙ্গল চালিয়ে খায় 

যারা নিঃশব্দ নীরবে কারখানায় খেটে যায় 

প্রখর রৌদ্রে যারা সড়ক বানায় 

তুমি তাদেরই হৃদয় করেছো জয় 

ভয় হয় ভয় হয় ভয় হয়! 

সেইসব মানুষের যারা গরীবের রক্ত চুষে চুষে খায় 

যারা গরিবের মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায় 

যারা হৃদপিণ্ড পিষে মারে।

তুমি শাসন করেছে তাদের .... 

তোমার শক্তি মুক্তি পথ দেখায় 

আমরা তোমারি দিশারী ।

রবিবার, ২০ জুন, ২০২১

 সমাবর্তন


কত অলীক স্বপ্ন নিয়ে 

জন্ম আমার.... 

অনুভূত হল দুধ হীন স্তন

যন্ত্রণার চাবিটা গেছে খুলে 

সালটা মনে হয় প্রতিবছরই আসে এমনি করে।

পিতৃত্বের দোহাই দিলেও দোষের কিছু নয় 

প্রকৃতির নিয়মেই চলে 

অনিয়ন্ত্রিত জন্মগত অধিকার ।

সত্যনিষ্ঠাপরায়নতা যেন বংশ পরম্পরা....

অভুক্ত অসহায় হয়েও 

প্রবল জলোচ্ছাসে সহিতে হয় প্রতি মুহূর্ত

কী অপূর্ব সমাবর্তন!

শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

 দোদুল্যমান

রঞ্জন ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুর।




তোর এই শ্যামা বর্ণ মুখে

আলপনা দিয়েছে কে ?

নিটোল সদ্য ফোটা সূর্যমুখী 

উজ্জ্বল উরসে !

কী বিছে দোলে কটিদেশে 

বেশ বেশ বেশ অপূর্ব অশেষ !

কোমর যেন ছিপের দোলে দোদুল্যমান 

ঢেউয়ের দোলে অঙ্গ দোলে 

আর সব ম্লান, 

মন তো তা দেখে 

দেখে না ভবিষ্যৎ 

অঙ্গ দোলে প্রত্যঙ্গ দোলে 

দোলে মৈনাক পর্বত!

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

ভয়


দুঃসময়ে কবিতা :: 
          

ভয় 

রঞ্জন ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুর

অন্ধকার ছেয়েছে পৃথিবী 
দামিনী যে দেয় ডাক 
ভীত সন্ত্রস্ত পশুপাখি সব 
মানুষ যে হতবাক !
কি হয়েছে কেউ জানে না 
জানে কি মনের ভাবনা কবি ?
হৃদকমলে ফুটে সব 
হতাশা দুঃখের করুন ছবি ।
ভাঙছে নদীর বুকের বাঁধন 
সাগর যেন করছে শোষন 
প্রকৃতি আজ রুষ্ট হয়ে 
সবখানেতে চলছে রোদন ।
আয় রে সবাই এগিয়ে আয় 
এবার দুঃখ করতে জয়
চলছে  যুদ্ধ চলবে এখনো 
নেইরে অবলা নেই রে ভয়।

বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১

Smram

 স্মরণ 

রঞ্জন ভট্টাচার্য

বারাকপুর


"অগ্নিবীণা"য় শপথ করেও 

মর্যাদা তুমি পাওনি ,

সারা বাঙালির মনের কোনে 

কৈফিয়ৎ তুমি দাওনি।



"বিদ্রোহী" হয়ে বীরের সাজে 

সাহস দিয়েছে মনে ,

সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তুমি

ভাঙ্গনি অকারনে।


"পূজারিণী"তে মায়েরে পূজিলে 

পথহারা হয়ে তুমি, 

তোমাকেই পূজি শত শত বার 

তোমারই পদ চুমি।


*"*"*"*"*"          *"*"*"*"*"*"*"*

https://online.anyflip.com/lkvm/djmp/mobile/index.html

 https://online.anyflip.com/lkvm/djmp/mobile/index.html